এডভোকেট আহমেদ হোসেন : আজ ২৫শে মার্চ। দেখতে দেখতে তেরোটি বসন্ত পার হয়ে গেল, অথচ মনে হয় এই তো সেদিনের কথা। ঠিক তেরো বছর আগে এই দিনে মাগুরার মাটির গর্ব, বাংলাদেশের রাজনীতির এক উজ্জ্বল ধ্রুবতারা— মেজর জেনারেল (অবঃ) এম মজিদ-উল-হক আমাদের ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন পরলোকে। আজ গভীর শ্রদ্ধা আর ভেজা চোখে তাঁকে স্মরণ করছি।
“তিনি ছিলেন এক বিরল ব্যক্তিত্ব—যিনি রণাঙ্গনের পোশাক ছাড়লেও হৃদয়ে সৈনিকের শৃঙ্খলা ধরে রেখেছিলেন, আর রাজনীতির কণ্টকাকীর্ণ পথে এসেও হারাননি তাঁর সহজাত মানবিকতা।”
স্মৃতিপটে ভেসে ওঠে ১৯৮১ সালের সেই দিনগুলো। তাঁরই স্নেহের হাত ধরে রাজনীতির আঙিনায় আমার প্রথম পদক্ষেপ। সেই থেকে তাঁর জীবদ্দশায় টানা নয়টি বছর মাগুরা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তাঁর ছায়াতলে থেকে কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। প্রতিটি সংকটে, প্রতিটি পদক্ষেপে তাঁর দিকনির্দেশনা আর আদর্শ ছিল আমার এগিয়ে চলার পাথেয়। তিনি শুধু একজন নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন অভিভাবক।
প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া—উভয় নেতার মন্ত্রিসভাতেই তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। আজ মাগুরার প্রতিটি ধূলিকণা তাঁর সাক্ষ্য দেয়। এখানকার রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কৃষি বিপ্লব আর স্বাস্থ্যসেবার প্রতিটি ইটে তাঁর নিঃস্বার্থ অবদানের ছাপ আজও স্পষ্ট। মাগুরাবাসী আজও তাঁর সেই উন্নয়নমূলক কর্মযজ্ঞের সুফল ভোগ করছে।
তাঁর চলে যাওয়ার তেরো বছর পরেও যে বিশাল শূন্যতা আমাদের ঘিরে রেখেছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার সাধ্য আমার নেই। তবে তাঁর রেখে যাওয়া কাজ, অটুট আদর্শ আর জীবনের সুউচ্চ মূল্যবোধ আজও আমাদের পথ দেখিয়ে চলেছে—আর চিরকাল দেখাবে। তিনি নেই, কিন্তু তাঁর স্মৃতি আমাদের হৃদয়ে চির অমলিন।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে ফরিয়াদ করি—তিনি যেন প্রিয় এই মানুষটিকে জান্নাতুল ফেরদাউসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করেন। আমিন।
লেখক : এডভোকেট আহমেদ হোসেন, সাবেক জিএস (রাকসু), সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জেলা বিএনপি, মাগুরা।